![]() |
| তিন কটি টাকা নির্মাণ ব্যায়ে সেতু বিপাকে দুই পারের মানুষ |
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:-
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল আক্কেলপুর রুকিন্দিপুর পাঁচমাথা ভায়া বটতলী হাট (পুরাতন) তরকারি বাজার সংলগ্ন সেতুর ওপর ২কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় সমাপ্ত হওয়ার পথে কিন্তু সেতুর দু’পাশে সড়ক না হওয়ায় সেতুটি কোনো উপকারে আসছে না জনগণের। বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ হাজারো মানুষের যাতায়াতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে সেতু নির্মাণের পরও যাতায়াতে দুর্ভোগ কাটেনি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জায়বদ্দিন ও স্থানীয়দের অভিযোগ গত সরকারের আমলে সেতুর কাজ শুরু করেন তখন ওই ঠিকাদার ইচ্ছামত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করেছে সাধারণ লোকজন ভয়ে কিছু বলতে পারিনি।
সেতুর উভয় পাশে শরু রাস্তা প্রশস্থ না করার কারনে জনসাধারণ ও যান চলাচল ব্যহত। কাজে আসছেনা প্রায় তিন কটি টাকার সেতু। সেতুর উত্তর পাশে ব্যক্তি মালিকানা তিনটি কাঠাল গাছ ও দক্ষিণ পাশে জিয়াপুর হাইস্কুলে টিনসেডের একটি পরিত্যাক্ত ঘরের কারনে রাস্তা প্রশস্ত করা যাচ্ছেনা। স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার বলেও কোন কাজ হচ্ছেনা।
জানাগেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে SUPRB প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে দুই কটি, ৯৬লক্ষ ৪৬হাজার, ৬৫৫টাকা ব্যায়ে সেতুটি ৫৮০০মিঃ চেইনেজে ২৫ মিঃ দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মান কাজ করছেন মের্সাস বসুন্ধরা হাউজ বিল্ডার্স, নওগাঁর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সেতুর দুই পাশে গার্ডার নির্মান কাজ চলছে। এলজিইডির দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রকৌশলীর উপস্থিতি ছাড়াই নিম্নমানের ইটের খোয়া, পুরাতন ইট, মোটা বালুর পরির্বতে চিকন বালু ব্যবহার করে সেতুর দুই পাশের গার্ডারের কাজ করা হচ্ছে।
বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানান, সেতু নির্মাণ হওয়ায় তাদের আশা ছিল ভোগান্তি দূর হবে। কিন্তু এখন উল্টো তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সরু রাস্তা দিয়ে সেতুতে উঠতে গিয়ে অনেক সময় শিশুরা ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ সেতুর দুই পাড়েই রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য৷ ।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় তিন কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও এর সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। ফলে কাঁচাবাজারে মালামাল নিয়ে অনেক দূরের পথ ঘুরে কষ্ট করে আসতে হবে৷। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হবে। তেতুর উভয় পাশে রয়েছে পিচঢালা পাকা রাস্তা কিন্তু সরু সড়ক প্রশস্ত না থাকায় ক্রেতারা বাজার করে রিকশা বা ভ্যানে চড়ে বাড়ি যেতে বিরম্বনা বা দূর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে৷।
চলাচলের যোগ্য পুরাতন সেতু ভেঙে ওই সংযোগ সেতুটি ৮ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের শুরু থেকে প্রায় দুই বছর ধরে এ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে এলাকাবাসী। এখন রাস্তাটি প্রস্থত না হলে এই সেতু আমাদের কাজে আসবে না আমাদের দাবি এই পুরাতুন ভবনের প্রাঁচির ভেঙ্গে রাস্তা বাঁড়ানো উতিত৷
স্থানীয় ভুক্তভোগী শিক্ষক ছগির মৃধা বলেন, সেতুটির পূর্ব পশ্চিম দক্ষিণ পাড়ে কাঁচাবাজারসহ উভয় পাড়ে স্থায়ী মার্কেট থাকায় এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সেতুটি পারাপার হচ্ছেন। কিন্তু প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ না করা হলে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে । দ্রুত সরু রাস্তাটিকে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।
বাজারে আসা উপজেলা সদরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখনো তৈরি হয়নি সেতুর দু’পাশে চলাচলের প্রশস্ত রাস্তা। এতে সেতুর সুবিধা পাচ্ছেন না দুই পারের কয়েক হাজার মানুষ।
ভ্যানচালক জমির উদ্দীন বলেন, এ রাস্তা দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করে না। মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়া করতে খুবই কষ্ট হবে। এত টাকার সেতু এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। যদি ওই ভবনের প্রাচীর ভেঙে দিয়ে সরু রাস্তাটা প্রশস্ত করা হয় তাহলে মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হবে৷
এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অলিউল্লাহ শেখ বলেন, সেতুটির, পাইলিং টেস্টের প্রতিবেদন আমাদের কাছে রয়েছে৷ বেইজমেন্ট ইট গুলো আমরাই ঠিকাদারের কাছে বিক্রয় করেছি৷ উপদেষ্টা মহদয় আসবে একটু ফ্রি হয়ে নেই পরে কথা বলছি আপনাদের সাথে৷

0 মন্তব্যসমূহ