![]() |
| শীতের আমেজে কালাইয়ে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা |
মোঃ মেহেদুল ইসলাম কালাই V
শীতের কুয়াশা যখন ধীরে ধীরে প্রকৃতিকে আচ্ছন্ন করে,তখন গ্রামীণ জনপদের এক অনন্য ঐতিহ্য ফিরে আসে—খেজুর রস সংগ্রহ। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার গ্রামাঞ্চলে এখন গাছিদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে পাঁচটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রতিটি কোণায় চলছে রস সংগ্রহের প্রাণবন্ত উৎসব।এই রস থেকে তৈরি হয় পাটালি ও লালি গুড়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদাই মেটায় না,গাছিদের জন্য এনে দেয় আর্থিক স্বচ্ছলতাও।
শীত যতই বাড়ছে, ততই বাড়ছে খেজুর রসের চাহিদা। তাই গাছিরা এখন কাজের চাপে দম ফেলার সময়ও পাচ্ছেন না। তবুও এই ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে। গাছিরা প্রতিদিন বিকেলে খেজুর গাছের সাদা অংশ পরিষ্কার করে মাটির কলসি বাঁধেন। পরদিন সকালে সেই কলসিতে জমা হওয়া টাটকা রস সংগ্রহ করেন। কেউ কেউ এই কাঁচা রস বাজারে বিক্রি করেন, আবার কেউ সকালেই রস জ্বালিয়ে তৈরি করেন পাটালি ও লালি গুড়। এ পদ্ধতিতে পাওয়া গুড় প্রতি কেজি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়।শীতের সকালে খেজুরের কাঁচা রস পান করা কিংবা সেই রস থেকে তৈরি পিঠা ও পায়েস যেন বাংলার শীতের অনিবার্য অংশ। এই মৌসুমে গাছিদের কঠোর পরিশ্রম কেবল তাদের জীবিকা নির্বাহেই সাহায্য করে না, এটি টিকিয়ে রাখে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের ঝামুটপুর গ্রামের গাছি মো. জাবেদ শেখ বলেন, এ বছর আমি ৫০টি গাছ রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করেছি। শীত শুরুর আগেই স্থানীয় লোকজনের গাছ টাকার বিনিময়ে লিজ নিয়েছি। রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ এখন পুরোদমে চলছে। প্রতি কেজি রস ৩৫ টাকায় বিক্রি করি।"
ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা গাছিরা জানান,খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা সহজ কাজ নয়। গাছের মাথার অংশ পরিষ্কার করে বিশেষ পদ্ধতিতে কলসিতে রস সংগ্রহ করতে হয়।এটি করতে গিয়ে গাছিরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে গাছে উঠে কাজ করেন। উদয়পুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আশরাফ হোসেন ও আঁওড়া গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন জানান,"খেজুর গাছে ওঠা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কোমরে রশি বেঁধে গাছে উঠতে হয়,তাই দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। তবে আমাদের এই কাজ আমরা ভালোবাসা ও মনের আনন্দ নিয়েই করি।এই রস ও গুড়ের চাহিদা ব্যাপক থাকায় গাছিরা ভালো উপার্জন করতে পারেন।
কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা অরুণ চন্দ্র রায় জানান,শীত মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে গাছিরা রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তবে খেজুর গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে,যা আমাদের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য উদ্বেগজনক। সরকারিভাবে খেজুর গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।"

0 মন্তব্যসমূহ